পেমেন্ট ও ফি নীতি
কার্যকর: ২৩ অক্টোবর ২০২৬
টাকা কীভাবে যোগ হয়, জমা থাকে, ছাড়া হয় আর তোলা যায়, এবং কোন ফি কত।
১. টাকার পথ এক নজরে
- ১কাজদাতা ওয়ালেটে টাকা যোগ করেন।
- ২অফার গ্রহণ করলে চুক্তির টাকা ওয়ালেট থেকে আমাদের কাছে জমা থাকে। কেউ তা তুলতে পারে না।
- ৩কাজ গ্রহণকারী কাজ শেষ বলে জানান।
- ৪কাজদাতা কাজ দেখে টাকা ছাড়েন। সার্ভিস ফি কেটে বাকি টাকা কাজ গ্রহণকারীর ওয়ালেটে যায়।
- ৫কাজ গ্রহণকারী ওয়ালেট থেকে বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংকে টাকা তোলেন।
সব টাকার হিসাব দুই দিক মিলিয়ে (double-entry) রাখা হয়, আর প্রতিটি লেনদেন ওয়ালেট পাতায় দেখা যায়।
২. ওয়ালেটে টাকা যোগ
- মাধ্যম: বাংলা QR, বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক ট্রান্সফার। ওয়ালেট পাতায় যে অ্যাকাউন্ট বা QR দেখানো হয়, শুধু সেখানেই টাকা পাঠাবেন।
- একবারে সর্বনিম্ন ৳১০০।
- টাকা পাঠিয়ে চাওয়া তথ্য দিন, যেমন ট্রানজেকশন আইডি বা কার্ড ও অ্যাকাউন্টের শেষ ৪ সংখ্যা। বাংলা QR-এর টাকা ব্যাংকের বার্তা মিলিয়ে সাধারণত নিজে থেকে যোগ হয়। অন্য মাধ্যমের টাকা আমাদের টিম যাচাই করে যোগ করে।
- টাকা যোগের অনুরোধ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা থাকে। এর মধ্যে তথ্য না দিলে অনুরোধ বাতিল হয়ে যায়।
- QR স্ক্যান করার পর প্রাপকের নাম মিলিয়ে নিন। অন্য নাম দেখালে টাকা পাঠাবেন না।
- ভুল অ্যাকাউন্টে, ভুল পরিমাণে বা অন্যের হয়ে পাঠানো টাকা মেলাতে দেরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে সাহায্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
৩. জমা রাখা টাকা (এসক্রো)
- অফার গ্রহণের মুহূর্তে চুক্তির পুরো টাকা কাজদাতার ওয়ালেট থেকে কাটা হয়ে আমাদের কাছে জমা থাকে।
- কাজ গ্রহণকারী কাজ শেষ না জানানো পর্যন্ত টাকা ছাড়া যায় না।
- কাজ গ্রহণকারী কাজ শেষ জানানোর পর কাজদাতা ৭ দিনের মধ্যে টাকা না ছাড়লে বা বিরোধ না খুললে টাকা নিজে থেকে কাজ গ্রহণকারীর কাছে চলে যায়। এতে কোনো কাজদাতা চুপ থেকে কাজ গ্রহণকারীর পাওনা আটকে রাখতে পারেন না।
- টাকা একবার ছেড়ে দিলে তা আর ফেরত নেওয়া যায় না। তাই কাজ পুরো বুঝে নিয়ে তবেই ছাড়ুন।
- বিরোধ খুললে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত টাকা জমাই থাকে, নিজে থেকে ছাড়া হয় না।
৪. সার্ভিস ফি
- কাজ গ্রহণকারীর ফি: টাকা ছাড়ার সময় চুক্তির টাকার ১৫% কাটা হয়। নিয়মিত ও ভালো রেটিংয়ের কাজ গ্রহণকারীদের জন্য স্তর অনুযায়ী এই হার কম হতে পারে।
- কাজদাতার ফি: বর্তমানে কাজদাতার কাছ থেকে কোনো সার্ভিস ফি নেওয়া হয় না।
অফার দেওয়ার সময় কাজ গ্রহণকারী আর অফার গ্রহণের সময় কাজদাতা দেখতে পান মোট কত টাকা লাগবে বা কত পাবেন। চুক্তির সময় যে ফি দেখানো হয়, সেই চুক্তিতে সেটাই খাটে। পরে ফি বদলালেও চলমান চুক্তিতে তার প্রভাব পড়ে না।
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ভ্যাট বা উৎসে কর আইন অনুযায়ী কাটা হতে পারে।
৫. টাকা তোলা
- নিজের নামের বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা তুলতে পারবেন। অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে না।
- একবারে সর্বনিম্ন ৳৫০০।
- নিরাপত্তার জন্য সদ্য ওয়ালেটে আসা টাকা ২৪ ঘণ্টা পর থেকে তোলা যায়।
- বিকাশে তোলার ফি: তোলা টাকার ১.৫%
- নগদে তোলার ফি: তোলা টাকার ১.৫%
- রকেটে তোলার ফি: তোলা টাকার ১.৫%
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তোলার ফি: প্রতিবার ৳১০
- অনুরোধ পাঠালে টাকা সাথে সাথে ওয়ালেট থেকে আলাদা করে রাখা হয়। আমাদের টিম যাচাই করে কর্মদিবসে পাঠায়। ব্যাংকে পৌঁছাতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।
- পাঠানো ব্যর্থ হলে বা অনুরোধ বাতিল হলে টাকা ওয়ালেটে ফেরত আসে।
- তোলার আগে আমরা পরিচয় যাচাই চাইতে পারি।
কাজ না করেও ওয়ালেটে যোগ করা ব্যবহার না হওয়া টাকা একই নিয়মে তোলা যায়।
৬. প্রতারণা প্রতিরোধ
সন্দেহজনক জমা বা তোলা, অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, বা প্ল্যাটফর্মকে টাকা ঘোরানোর কাজে ব্যবহারের চেষ্টা দেখলে আমরা সেই লেনদেন আটকে রেখে কাগজপত্র চাইতে পারি। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে পারি।